
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আনোয়ারার ২নং বারশত ইউনিয়নে এক ভুয়া বাসিন্দার সেজে বোয়ালীয়ার একটি পরিবার কে জিম্মি করে রেখেছে সোহাগ নামক এক প্রতারক। সে দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সকল প্রকার সনদও ব্যাবহার করে আসছেন বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে সে প্রয়াত একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজিবীকে বাবা ডেকে তার অবসরের যাবতীয় সব হাতিয়ে নেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায়,সোহাগ তালুকদার প্রকাশে সোহাগ খা, সে বারশত ইউনিয়নের বাসিন্দা দাবি করলেও সে আসলে বারশত ইউনিয়নের বাসিন্দা নয়।কারন সে যে অবসর প্রাপ্তব্যাক্তির নাম ও ঠিকানা ব্যাবহার করেন তা পুরাপুরি ছলছাতুরী । ইতিমধ্যে সে প্রাপ্ত সকল ধরনের সনদসহ তার সকল কাগজ পত্রে যে ঠিকানা ব্যাবহার করেছেন সেটি পুরাটাই মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রবন।
তাহলে কে সেই ব্যাক্তি,সে ব্যাবহার করেছেন, সোহাগ তালুকদার পিতাঃআবদুস সালাম তালুকদার, গ্রাম -বোয়ালিয়া (তালুকদার বাড়ি), থানা আনোয়ারা,জেলাঃচট্টগ্রাম।
সোহাগের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়, মোঃ সোহাগ প্রকাশে সবুজ, মাতাঃমেরী বেগম, বরফকল, বরিশাল।কি কারনে সে নিজ পরিচয় গোপন করে বরিশাল থেকে চট্টগ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন তা এখনো রহস্যময়।

মরহুমের আবদুস সালামের ঔয়ারিশগন জানান,সোহাগ নামে মরহুম আবদুস সালামের কোনো ঔয়ারিশ ছিল না,নেই।যাহা ইতিমধ্যে সোহাগ নিজে ও তার শ্যালকদের ব্যাক্তিগত ওয়ালে লিখেছেন পালিত সন্তান ও সৎ বাবা। এমনকি ১লা ডিসেম্বর ২০১৯ইং তিনি নিজে আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকায় নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি লাপোয়া বা পালিত সন্তান।তবে হেবা রেজিস্টারি ও নামজারি করেছেন বলে জানিয়েছেন তবে তার বিস্তারিত গোপন রেখেছেন।তারপরও এই নামে কথিত ব্যাক্তি দিনের পর দিন মরহুমের পরিবার কে ব্ল্যাকমেইল করে যাচ্ছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে ফেইসবুকে ও বিভিন্ন নিউজে লিখে যাচ্ছেন। মরহুমের পরিবারকে ভয় ভীতিসহ প্রান নাশের হুমকি দেখিয়ে যাচ্ছে।সে এই পর্যন্ত মরহুমের সম্পদ আত্তসাতসহ অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছেন।মাঝে মাঝে মরহুমের গ্রামের বাড়িতে সদলবলে দেশীয় অস্ত্রপাতি নিয়ে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু তার সকল সনদ ও ভোটার কার্ডে রয়েছে আবদুস সালাম পরিচয়।সেই তথ্যটি পুরাপুরি মিথ্যা বলে জোড়ালো দাবি করেছেন ঔয়ারিশগন।এই ব্যাপারে বারশত ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছিল।তার লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর ফোনে হুমকির বিপরীতে আনোয়ারা থানায় একটি জিডিও করা হয়।
সোহাগের মাকে সোহাগের জন্মদাতা বাবার ব্যাপারে প্রশ্ন যতবার করা হয় তিনি সেটা কৌশলে এড়িয়ে যান।
তবে তাদের মা ও ছেলের ছলছাতুরী নাম ও ঠিকানা ব্যাবহার এর কারন হিসাবে পাওয়া যায় সোহাগের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রাম থেকে বিয়ে করবেন চট্টগ্রামবাসী হবেন। তাই সরকারী চাকুরীজিবী পেয়ে সেটা বাজিমাত। আর সেই সুত্রধরে প্রথমে ৫ লক্ষ দেনমোহরে একটি বিয়ে করেন আনোয়ারা ছত্তারহাট উশকাইন গ্রাম থেকে। বিয়ের কিছুদিন পরে বউয়ের গায়ের থেকে গন্ধ আসছে বলে সামান্য অযুহাতে হামিদা নামক অবলা নারীর কোমলমতি মনটি ভেঙ্গে দেয়া হয়।২৫ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৪সালে,আনোয়ারা চাতরী কাজী অফিসে দেয়া হয় তাকে ডিভোর্স।
পরে বারশত ইউনিয়নের ওয়াহেদ পাড়া থেকে আবারো দ্বিতীয় বিবাহ করেন।আস্তে আস্তে নিজেকে দাবী করতে থাকে বারশতের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে। আইনত যেহেতু, হেবা নিজ পুত্র ব্যাতিত হয়না,তাহলে সে বারশতে মরহুমের কোনো জমির মালিকানায় নাম আসার প্রশ্ন আসেনা।যেহেতু,পারিবারিক ঔয়ারিশ সনদে যেহেতু নাম নেই তাহলে হেবা রেজিস্টারি ও নামজারি হওয়াটা সন্দেহজনক। কারন, মরহুমের কোনো সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় নিতে হলে অবশ্যই ঔয়ারিশ সনদ, চেয়ারম্যান সনদ ও এন আই ডি ছাড়া সম্ভব নয়। এই বিষয়টির সত্যতা লোকমুখে জানাজানি হলে মরহুমের জানাজার পর থেকে বিগত দুই বৎসর শহরে গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে সরে পরেন।আত্বগোপনে থেকেও বারশতের পরিচয়ে বিভিন্ন ফায়েদা লুটে চলেছেন। সে একইভাবে মরহুমের ঠিকানা ব্যাবহার করে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতেও চাকুরিরত অবস্থায় আছেন। এখন আবার দুই বৎসর পর, সে ভিটা-বাড়ি দখলের পায়তারা করছেন। এই ব্যাপারে মরহুমের ঔয়ারিশগন বার বার সমাজ নিয়ে বসে আপোষের কথা জানালে সোহাগ জানান,বসাবসির কিছু নাই। মরহুম তার অবসরের প্রাপ্ত টাকা পয়সা (২১ লক্ষ টাকা) ও ব্যাবহার্য সকল আসবাবপত্র তার মাকে দিয়েছেন তা আর আলোচনার বিষয় নয়। আর তাকে জায়গা দেয়া হয়েছে তা ক্ষমতা ও শক্তির বলে নিয়ে ছাড়বেন বলে জানিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে সোহাগের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনটি বার বার বন্ধ পাওয়া যায়।কিন্তু তার শ্যালকদের ফেইসবুকের আইডি ও একটি প্রতিবাদ নিউজে স্বীকার করেছেন মরহুম তার সৎবাবা হন,সে পালিত সন্তান এবং সেই মুলে তাকে হেবা হিসাবে ২ গন্ডা জমি দেয়া হয় তাই সে বাসিন্দা দাবি করিয়া সব কিছুর অধিকার চাহিয়া চলছেন।উকিল মতামত নিয়ে জানা যায়,নিজ সন্তান বা নিজ বীর্যের সন্তান ছাড়া হেবা হয়না।
প্রসংগতঃ ২৯ শে ডিসেম্বর ২০১৭ সালে মরহুমের মৃত্যুর আগে আবদুস সালাম তার ঔরষজাত সন্তান আবদুস সাত্তার কে বলে যান,তার স্থাবর ও অস্থাবর সবকিছু সোহাগ ও তার মা জোর করে নিয়ে ফেলেছেন। যার কারনে তিনি খুব মানসিক রোগে ভুগছেন।
৩১/১২/২০১৭ইং তার মৃত্যুর পর, ২০১৮সালে আবদুস সালামের মৃত্যুর ৪১ দিনের মুখে একটি পারিবারিক বৈঠক হয়েছিল। সোহাগ ও তার মা জানিয়েছিল,মরহুম ২১ লক্ষ টাকা রেখে গিয়েছেন, পেনশন নমিনি বইটিও আছে তাদের কাছে। সোহাগ সমাজের লোকমুখে স্বীকার উক্তি দিয়ে যান সবকিছুই মরহুমের প্রথম পরিবার (তাহেরা খাতুন, স্বামী মরহুম আবদুস সালাম ও আবদুস সাত্তারসহ) সকল ঔয়ারিশগনের মাঝে আইনি ধারা অনুযায়ী সবার সম্মুখে বণ্টন এর রেসিও অনুযায়ী দিয়ে দিবেন।তাকে কতদিন লাগবে প্রশ্ন করা হলে সোহাগ ১২ দিন সময় নেন যাহা আজ ২ বছরে গড়িয়েছে।এর মধ্য সমাজের মান্যগণ্য ব্যাক্তিসহ ইউনিয়ন পরিষদ এর প্রতিনিধি ও চেয়ারম্যান কতৃক যোগাযোগ করা হলে এবং উভয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য আপোষের বঠৈক ডাকা হলে সোহাগ সোজাসোজি জানিয়ে দেন এত বসাবসির কিছু নেই। অথচ প্রতিবার বৈঠক সভায় বাদী তার সময়মত উপস্থিত হয়েছেন।
এই ব্যাপারে, সাত্তার ও মরহুমের বড় মেয়ে সুফিয়া বেগম,বড় ছেলে আবদুর রাজ্জাক যোগাযোগ করিলে তাদের রক্তচোখে জানিয়ে দেয়া হয়,কার সাথে বসবো,ওইসব লোক সব তোমার ও সমাজ তোমার! আমার (সোহাগ) নয়। এই বলিয়া দুই বছর সময় ক্ষেপন করিয়া আবার দুই বছর পর আবার মরহুমের পরিবারের সাথে ঝামেলা করার ছক একে চলেছেন।




